নাসিক্য ধ্বনি কাকে বলে – সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, সূত্র ও উদাহরণ
ভূমিকা
বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা যখন কথা বলি, তখন মুখ ও নাক দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ধ্বনি বের হয়। এই ধ্বনিগুলোর মধ্যে কিছু ধ্বনি নাক দিয়ে উচ্চারিত হয়। এসব ধ্বনিকে বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি।
বাংলা ভাষা সঠিকভাবে পড়া, লেখা এবং উচ্চারণ করার জন্য নাসিক্য ধ্বনি সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি বাংলা ব্যাকরণের একটি মৌলিক বিষয়। এই আর্টিকেলে আমরা সহজ ভাষায় জানবো নাসিক্য ধ্বনি কাকে বলে, এর বৈশিষ্ট্য, সূত্র এবং উদাহরণ।
নাসিক্য ধ্বনি কাকে বলে (সংজ্ঞা)
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখের পাশাপাশি নাক দিয়েও বাতাস বের হয়, তাকে নাসিক্য ধ্বনি বলা হয়।
অর্থাৎ, যখন আমরা কোনো ধ্বনি উচ্চারণ করি এবং সেই ধ্বনি তৈরি হওয়ার সময় বাতাসের একটি অংশ নাক দিয়ে বের হয়, তখন সেই ধ্বনিকে নাসিক্য ধ্বনি বলা হয়।
বাংলা ভাষায় কয়েকটি বর্ণ আছে যেগুলো নাসিক্য ধ্বনি হিসেবে পরিচিত। যেমন —
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম
এই বর্ণগুলো উচ্চারণ করার সময় নাকের সাহায্য লাগে, তাই এগুলোকে নাসিক্য ধ্বনি বলা হয়।
নাসিক্য ধ্বনির বৈশিষ্ট্য
নাসিক্য ধ্বনির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে আমরা সহজে নাসিক্য ধ্বনি চিনতে পারি।
১. নাক দিয়ে বাতাস বের হয়
নাসিক্য ধ্বনি উচ্চারণ করার সময় বাতাস আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নাক দিয়ে বের হয়।
২. মুখ ও নাক উভয়ের সাহায্যে উচ্চারণ হয়
এই ধ্বনি তৈরি করতে মুখ এবং নাক উভয় অঙ্গ ব্যবহার করা হয়।
৩. বাংলা ভাষায় পাঁচটি প্রধান নাসিক্য বর্ণ আছে
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের মধ্যে পাঁচটি নাসিক্য বর্ণ রয়েছে:
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম
৪. শব্দের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত হয়
নাসিক্য ধ্বনি শব্দের শুরু, মাঝখান বা শেষে থাকতে পারে।
৫. উচ্চারণে নরম ধ্বনি শোনা যায়
নাসিক্য ধ্বনিগুলো সাধারণত তুলনামূলকভাবে নরম বা কোমল শোনায়।

নাসিক্য ধ্বনির সূত্র
বাংলা ব্যাকরণে নাসিক্য ধ্বনি মনে রাখার জন্য একটি সহজ সূত্র ব্যবহার করা হয়।
নাসিক্য ধ্বনি = ঙ + ঞ + ণ + ন + ম
এই পাঁচটি বর্ণই বাংলা ভাষার প্রধান নাসিক্য ধ্বনি।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য অনেক শিক্ষক একটি ছোট ছড়া ব্যবহার করেন:
“ঙ ঞ ণ ন ম – এই পাঁচটি নাসিক্য বর্ণ।”
এই সূত্রটি মনে রাখলে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই নাসিক্য ধ্বনি চিনতে পারবে।
নাসিক্য ধ্বনির উদাহরণ
নিচে কয়েকটি শব্দের মাধ্যমে নাসিক্য ধ্বনির উদাহরণ দেওয়া হলো।
ঙ যুক্ত শব্দ
- রঙ
- ঢঙ
- সংগীত
ঞ যুক্ত শব্দ
- জ্ঞান
- বাঞ্ছা
ণ যুক্ত শব্দ
- বর্ণ
- গণনা
ন যুক্ত শব্দ
- নদী
- নতুন
- মানুষ
ম যুক্ত শব্দ
- মা
- মাটি
- আমার
এই শব্দগুলো উচ্চারণ করলে বোঝা যায় যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস নাক দিয়েও বের হয়।
উপসংহার
বাংলা ভাষার ধ্বনি বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নাসিক্য ধ্বনি। যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস নাক দিয়ে বের হয়, তাকে নাসিক্য ধ্বনি বলা হয়। বাংলা ভাষায় প্রধানত পাঁচটি নাসিক্য বর্ণ রয়েছে— ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।
নাসিক্য ধ্বনির বৈশিষ্ট্য, সূত্র এবং উদাহরণ জানা থাকলে ছাত্রছাত্রীরা বাংলা ব্যাকরণ আরও সহজভাবে বুঝতে পারবে। তাই বাংলা ভাষা শেখার ক্ষেত্রে নাসিক্য ধ্বনি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা খুবই জরুরি।