বিসর্গ সন্ধি কাকে বলে? সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, নিয়ম ও উদাহরণ
ভূমিকা
বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সন্ধি বলতে মূলত দুটি শব্দ বা ধ্বনি একসাথে মিলিত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হওয়াকে বোঝায়। বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় সন্ধির বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরনের নাম হলো বিসর্গ সন্ধি। এই সন্ধি সাধারণত সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দে বেশি দেখা যায়। ছাত্রদের জন্য বিসর্গ সন্ধি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ব্যাকরণের পরীক্ষায় প্রায়ই আসে এবং শব্দের সঠিক রূপ বোঝার জন্যও এটি জানা দরকার।
বিসর্গ সন্ধি কাকে বলে (সংজ্ঞা)
যখন একটি শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকে এবং পরবর্তী শব্দের প্রথম অক্ষরের সাথে মিলিত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তখন তাকে বিসর্গ সন্ধি বলা হয়।
সহজভাবে বলা যায়, কোনো শব্দের শেষে থাকা ঃ (বিসর্গ) অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তার উচ্চারণ বা রূপে পরিবর্তন ঘটালে সেটিই বিসর্গ সন্ধি।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—
নিঃ + শব্দ = নিঃশব্দ
এখানে প্রথম শব্দের শেষে বিসর্গ রয়েছে এবং পরবর্তী শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। তাই এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
বিসর্গ সন্ধির বৈশিষ্ট্য
বিসর্গ সন্ধির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো জানলে বিষয়টি আরও সহজে বোঝা যায়।
১. বিসর্গ চিহ্ন থাকে
বিসর্গ সন্ধিতে সাধারণত শব্দের শেষে ঃ (বিসর্গ) থাকে।
২. দুটি শব্দের মিলনে তৈরি হয়
দুটি আলাদা শব্দ একত্রে মিলিত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
৩. ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে
বিসর্গের পরে কোন অক্ষর এসেছে তার উপর নির্ভর করে ধ্বনির পরিবর্তন হতে পারে।
৪. সংস্কৃত শব্দে বেশি দেখা যায়
বিসর্গ সন্ধি সাধারণত সংস্কৃত থেকে আগত শব্দে বেশি দেখা যায়।
৫. উচ্চারণ সহজ করার জন্য হয়
সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য হলো শব্দের উচ্চারণ সহজ করা।
বিসর্গ সন্ধির নিয়ম (সূত্র)
বিসর্গ সন্ধি হওয়ার সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম বা সূত্র অনুসরণ করা হয়। নিচে সহজভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম দেওয়া হলো।
১. বিসর্গ + শ, ষ, স
যদি বিসর্গের পরে শ, ষ, স ধ্বনি আসে, তাহলে বিসর্গ অনেক সময় শ বা স ধ্বনিতে পরিবর্তিত হয়।
উদাহরণ:
নিঃ + শব্দ = নিঃশব্দ
নিঃ + সন্দেহ = নিঃসন্দেহ
২. বিসর্গ + ক, খ, প, ফ
যদি বিসর্গের পরে ক, খ, প, ফ আসে, তখন বিসর্গ সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে।
উদাহরণ:
অন্তঃ + পুর = অন্তঃপুর
৩. বিসর্গ + স্বরবর্ণ
কখনো কখনো বিসর্গের পরে স্বরবর্ণ এলে বিসর্গের পরিবর্তন ঘটে।
উদাহরণ:
মনঃ + অনুকূল = মনোনুকূল
এই নিয়মগুলো অনুসরণ করে বিসর্গ সন্ধি গঠিত হয়।

বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ
বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য কয়েকটি সহজ উদাহরণ দেওয়া হলো।
১. নিঃ + শব্দ = নিঃশব্দ
এখানে বিসর্গের পরে “শ” এসেছে।
২. নিঃ + সন্দেহ = নিঃসন্দেহ
দুটি শব্দ মিলিত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।
৩. মনঃ + অনুকূল = মনোনুকূল
বিসর্গের পরিবর্তন হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।
৪. অন্তঃ + পুর = অন্তঃপুর
এখানে বিসর্গ অপরিবর্তিত রয়েছে।
৫. দুঃ + খ = দুঃখ
এই শব্দটিও বিসর্গ সন্ধির একটি পরিচিত উদাহরণ।
এই উদাহরণগুলো থেকে বোঝা যায় যে বিসর্গের পরে কোন ধ্বনি এসেছে তার উপর ভিত্তি করে শব্দের রূপ পরিবর্তিত হতে পারে।