ট্যাকটিক চলন কাকে বলে? সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, সূত্র ও উদাহরণ

১. ছোট ইন্ট্রো

জীববিজ্ঞানে জীবের বিভিন্ন ধরনের চলন বা নড়াচড়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। অনেক জীব বা কোষ বাইরের পরিবেশের প্রভাব অনুযায়ী দিক পরিবর্তন করে চলাফেরা করে। এই ধরনের চলনের মাধ্যমে তারা আলো, তাপ, রাসায়নিক পদার্থ বা অন্যান্য উদ্দীপনার দিকে বা সেখান থেকে দূরে সরে যায়।

এই ধরনের দিকনির্দেশিত চলনকে বলা হয় ট্যাকটিক চলন (Tactic Movement)। জীববিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হওয়ায় ছাত্রদের জন্য ট্যাকটিক চলন কাকে বলে, এর বৈশিষ্ট্য, সূত্র এবং উদাহরণ জানা খুবই প্রয়োজন।


ট্যাকটিক চলন কাকে বলে (সংজ্ঞা)

কোনো জীব বা কোষ যখন বাইরের কোনো উদ্দীপনার (Stimulus) প্রভাবে নির্দিষ্ট দিক বরাবর চলাফেরা করে, তখন সেই চলনকে ট্যাকটিক চলন বলা হয়।

সহজভাবে বলা যায়:

বাইরের উদ্দীপনার প্রভাবে জীব বা কোষের নির্দিষ্ট দিকে চলাচলকে ট্যাকটিক চলন বলে।

এখানে জীব কখনো উদ্দীপনার দিকে এগিয়ে যায়, আবার কখনো উদ্দীপনা থেকে দূরে সরে যায়

ট্যাকটিক চলন সাধারণত এককোষী জীব বা ছোট জীবের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যেমন—

  • ব্যাকটেরিয়া
  • ইউগ্লিনা
  • প্যারামেসিয়াম

এই জীবগুলো পরিবেশের আলো, তাপ বা রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে চলাচল করে।


ট্যাকটিক চলনের বৈশিষ্ট্য

ট্যাকটিক চলনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো জানলে বিষয়টি আরও সহজে বোঝা যায়।

১. উদ্দীপনার উপর নির্ভরশীল

ট্যাকটিক চলন সবসময় বাইরের কোনো উদ্দীপনা বা Stimulus এর উপর নির্ভর করে।

২. নির্দিষ্ট দিক থাকে

এই চলনের একটি নির্দিষ্ট দিক থাকে। জীব হয় উদ্দীপনার দিকে যায়, অথবা সেখান থেকে দূরে সরে যায়।

৩. এককোষী জীবের মধ্যে বেশি দেখা যায়

ট্যাকটিক চলন সাধারণত এককোষী জীব বা ছোট জীবের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

৪. দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়

উদ্দীপনার প্রভাবে জীব দ্রুত দিক পরিবর্তন করে চলতে পারে।

৫. বিভিন্ন ধরনের হতে পারে

উদ্দীপনার ধরন অনুযায়ী ট্যাকটিক চলনের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে, যেমন—

  • ফোটোট্যাক্সিস (আলোর প্রভাবে চলন)
  • কেমোট্যাক্সিস (রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে চলন)
  • থার্মোট্যাক্সিস (তাপের প্রভাবে চলন)

ট্যাকটিক চলনের সূত্র

জীববিজ্ঞানে ট্যাকটিক চলনের মূল ধারণা হলো উদ্দীপনা ও প্রতিক্রিয়া। অর্থাৎ কোনো উদ্দীপনার কারণে জীবের চলনের দিক নির্ধারিত হয়।

সাধারণভাবে ট্যাকটিক চলনের ধারণা এভাবে বোঝানো যায়:

Stimulus → Response → Directed Movement

অর্থাৎ,

উদ্দীপনা → প্রতিক্রিয়া → নির্দিষ্ট দিকের চলন

এখানে দুই ধরনের চলন দেখা যায়:

১. ধনাত্মক ট্যাকটিক চলন (Positive Taxis)

যখন কোনো জীব উদ্দীপনার দিকে এগিয়ে যায়, তখন তাকে ধনাত্মক ট্যাকটিক চলন বলা হয়।

উদাহরণ: ইউগ্লিনা আলোর দিকে এগিয়ে যায়।

২. ঋণাত্মক ট্যাকটিক চলন (Negative Taxis)

যখন কোনো জীব উদ্দীপনা থেকে দূরে সরে যায়, তখন তাকে ঋণাত্মক ট্যাকটিক চলন বলা হয়।

উদাহরণ: কিছু ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থেকে দূরে সরে যায়।


ট্যাকটিক চলনের উদাহরণ

১. ইউগ্লিনার আলোর দিকে চলন

ইউগ্লিনা নামক এককোষী জীব আলো ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে। তাই এটি সাধারণত আলোর দিকে চলে যায়। এটিকে বলা হয় ফোটোট্যাক্সিস

২. ব্যাকটেরিয়ার রাসায়নিক পদার্থের দিকে চলন

অনেক ব্যাকটেরিয়া খাদ্যের রাসায়নিক পদার্থের দিকে এগিয়ে যায়। এটি কেমোট্যাক্সিস এর উদাহরণ।

৩. প্যারামেসিয়ামের চলন

প্যারামেসিয়াম কখনো পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে নির্দিষ্ট দিক বরাবর চলাচল করে, যা ট্যাকটিক চলনের একটি উদাহরণ।

৪. তাপের প্রভাবে চলন

কিছু অণুজীব উপযুক্ত তাপমাত্রার দিকে চলে যায়। এটিকে থার্মোট্যাক্সিস বলা হয়।


উপসংহার

ট্যাকটিক চলন জীববিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এটি এমন একটি চলন যেখানে জীব বাইরের উদ্দীপনার প্রভাবে নির্দিষ্ট দিক বরাবর চলাচল করে। এই চলন সাধারণত এককোষী জীবের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং এটি ধনাত্মক বা ঋণাত্মক হতে পারে।

আলো, তাপ, রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদির প্রভাবে জীবের চলনই ট্যাকটিক চলনের উদাহরণ। তাই ছাত্রদের জন্য ট্যাকটিক চলন কাকে বলে, এর বৈশিষ্ট্য, সূত্র এবং উদাহরণ জানা জীববিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা বোঝার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *